হরিণটানায় মসজিদের বারান্দায় অবস্থান নেওয়া দিনমজুর মো. ডালিম গাজী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন আসামি জয়নাল আবেদীন গাইন। রবিবার (১৪ জুন) জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে গত শনিবার দুপুরে তাকে নগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজারের শ্রম বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জয়নাল আবেদীন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার জগদীশ কাটির বাসিন্দা কাশেম গাইনের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হরিণটানা থানার এসআই বদিউর রহমান বলেন, শ্রমিক ডালিম গাজী অপর শ্রমিক জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে হত্যার দু’দিন আগে দুইশ’ টাকা ধার নেয়। ফেরত চাইলে তাকে ঘুরাতে থাকে সে। এ নিয়ে তাদের দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ২৪ মে রাতে তারা দু’জন হরিণটানা থানার জয়খালী বায়তুল মামুর মসজিদের বারান্দায় অবস্থান করে। সেখানেও ধারের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। পরে উভয় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘটনার দিন শেষ রাতে ভিকটিমের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে থ্যাঁতলিয়ে দেয় আসামি জয়নাল আবেদীন। মৃত্যু নিশ্চিত করে ডালিমের কাছে থাকা ৩-৪ হাজার টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাড়ি চলে যায়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কখনও খুলনার শ্রম বাজারে আসেনি সে। এ সময়ে বাগেরহাট, ফকিরহাট সহ বিভিন্নস্থানে কাজ করতো সে।
তিনি আরও বলেন, ডালিম গাজী হত্যা মামলাটি একটি রহস্যজনক ছিল। কারণ আসামি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আন্তরিকতার সাথে কৈয়া, ডুমুরিয়া ও মোস্তর মোড়ের শ্রম বাজারসহ বিভিন্নস্থানের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ডালিম গাজী খুন হওয়ার আগের দিন কৈয়া বাজারে জয়নাল আবেদীনের সাথে অবস্থান করে। তার ভিডিও চিত্র আমরা বিভিন্নস্থানে দেখতে থাকি। কৈয়া বাজারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জয়নালের ভিডিও দেখে শণাক্ত করে। কিন্তু কোথায় থাকে তা বলতে পারেনি ওই ব্যক্তি। তাছাড়া ডালিমকে হত্যার পর থেকে উল্লিখিত শ্রম বাজারেও সে আসেনি। গত শনিবার দুপুরে সে কৈয়ার শ্রম বাজারে আসে এবং সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে প্রথমে আটক করা হয়। থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নিজের দায় স্বীকার করে সে। স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাইলে রবিবার দুপুরে আদালতে উপস্থিত করা হয়। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালতের বিচারক।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে খুলনার হরিণটানা থানাধীন কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ সংলগ্ন একটি মসজিদের বারান্দা থেকে ডালিম গাজী নামের এক দিনমজুরের মাথা থ্যাঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন রাতে নিহতের পরিবারের এক সদস্য বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

